রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ কারাগারে থাকা ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানির কথা রয়েছে।
এ মামলায় মোট অভিযুক্ত ৪১ জনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা অপর ১০ আসামি হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
অন্যদিকে মামলার মূল অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামসহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাজির না হওয়ায় তাদের পলাতক ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন আদালত। প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যা এবং পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০ জনকে নির্বিচারে হত্যার সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ