কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণুমুক্ত রাখার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়া আবার চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
রোববার (২৮ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে দুই মন্ত্রী কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করার বিষয়ে মত দেন তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই মন্ত্রী একমত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সম্পর্ক অতীতে নানা ঐতিহাসিক বিরোধের কারণে টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল। তবে ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে দেশ দুটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক দুই দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে বাণিজ্য বিরোধ ও জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনকাল নিয়ে ক্ষোভের জেরে দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি জিএসওএমআইএ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ আবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিয়েছে।
রোববারের বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিক দল ব্ল্যাক ঈগলস এবং জাপানের ব্লু ইমপালসের মধ্যে বিনিময় কার্যক্রম আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সমুদ্র দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যৌথ মানবিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।
দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এর আগে জানুয়ারিতে জাপানে বৈঠক করেন এবং মে মাসে সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা সংলাপের সময় আবার আলোচনা করেন। সেখানে জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহসহ সামরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
তবে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত বিরোধ রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরীয় নারীদের জাপানি সামরিক যৌনদাসত্বে বাধ্য করার বিষয় এবং জাপানের তাকেশিমা ও দক্ষিণ কোরিয়ার দখলে থাকা দকদো দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ এখনো উত্তেজনার কারণ।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ