মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ধামাই চা-বাগানের হাতলিঘাট এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে স্থাপিত একটি বাণিজ্যিক মাছের খামারে বিভিন্ন জাতের মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ইলিয়াছ মিয়া (৫৫) দাবি করেন, এতে তাঁর ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ইলিয়াছ মিয়া কয়েক বছর ধরে ওই খামারে তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, রুইসহ বিভিন্ন মাছ চাষ করছিলেন। গত শুক্রবার বড় আকারের মাছ বিক্রি করার কথা থাকলেও এর আগেই দ্রুতই মাছগুলো মারা যায়। খামারে গিয়ে এই পরিস্থিতি দেখেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।
ইলিয়াছ মিয়ার পরিবার জানায়, তিনি প্রায় ১০ বছর আগে ধামাই চা-বাগানের কাছ থেকে ৪০ বিঘা নিচু জমি পাঁচ বছরের জন্য বছরে দুই লাখ টাকা করে ইজারা নেন। এরপর বাঁধ দিয়ে মাছের খামার গড়ে তোলেন এবং দেখাশোনার জন্য দুজন ব্যক্তি নিয়োজিত আছেন।
জুড়ী থানা ও পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মিছবাহ উদ্দিন জানান, মাছের মরার পেছনে বিষ ব্যবহার করা হয়েছে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় অথবা অ্যামোনিয়া গ্যাস বৃদ্ধির কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষক্রান্ত মাছ পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই।
খামারির পরিবার জানায়, মৃত মাছগুলোর ওজন ছিল আধা কেজি থেকে তিন কেজি পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ মরে ভেসে ওঠে। মৃত মাছগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
খামারির ছেলে কয়েছ আহমদ জানিয়েছেন, বিষ প্রয়োগ করেনি খামারি, তাই মৎস-মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বুঝে উঠতে পারছেন না। বর্তমানে বাবার চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন এবং সিলেট থেকে ফেরার পর জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করবেন।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে।
মন্তব্যসমূহ