যুদ্ধ বন্ধে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি প্রকাশ করেছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে (ইরনা) সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন পক্ষের প্রস্তাবটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে উপস্থাপন করেছেন।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত জানাননি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের পর গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা আবার শুরু হয়। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের সবগুলো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে, যেখানে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। ইরানের আরও দাবির মধ্যে রয়েছে বিদেশে থাকা ইরানের জব্দ সম্পদ উন্মুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বন্ধ করা।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তেহরান কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় ছিল। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মাত্রা কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনও জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বুধবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ছোট জাহাজগুলোতে তারা হামলা চালাচ্ছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু সময় ধরেই জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছি। বিশেষ করে যে ছোট জাহাজগুলো প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেগুলোকে লক্ষ্য করছি। আমরা তাদের চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন ধরে এর জবাবে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ