ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আজানের ইতিহাস: যেভাবে ইসলামে চালু হলো নামাজের আহ্বান

আজানের ইতিহাস: যেভাবে ইসলামে চালু হলো নামাজের আহ্বান
ফলো করুন

আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানাতে আজান দেওয়া হয়। যিনি আজান দেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়। নামাজের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি আজানেরও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়াই নামাজ আদায় করা হতো। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণের পর মুসলমানদের নামাজের জন্য একত্রিত করার একটি সুনির্দিষ্ট সংকেতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ বিষয়ে তিনি সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

সাহাবায়ে কেরাম নামাজের সময় মুসলমানদের একত্রিত করার উপায় নিয়ে পরামর্শ সভায় বসেন। সেখানে চারটি প্রস্তাব আসে। এগুলো হলো:

১. ঝান্ডা উড়ানো। ২. আগুন প্রজ্বলন করা। ৩. শিঙা বাজানো। ৪. ঢোল বাজানো।

তবে কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়নি। ঝান্ডা উড়ালে দূরে থাকা সবাই তা দেখতে পাবে না। আগুন প্রজ্বলন অগ্নিপূজকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শিঙা বাজানো খ্রিস্টানদের এবং ঢোল বাজানো ইহুদিদের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এগুলোও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পরামর্শ সভা শেষ হয়।

এদিকে সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) বিষয়টি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিন্তার কথা মাথায় রেখে ফিরে যান। এরপর তিনি স্বপ্নে আজানের বাক্যগুলো শিখতে দেখেন। পরদিন সকালে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে স্বপ্নের বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক এসে আমাকে আজান শিক্ষা দিলেন।’

একইভাবে হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-ও আজানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে তিনি বিষয়টি তখন প্রকাশ করেননি। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) স্বপ্নের বৃত্তান্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বলার পর ওমর (রা.)ও নিজের দেখা স্বপ্নের কথা জানান।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তুমি আগে বললে না কেন?’

ওমর (রা.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ এ বিষয়ে আগেই বলে দিয়েছেন। এ কারণে আমি লজ্জিত।’

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বিলাল (রা.)-কে ডেকে বলেন, ‘বিলাল, ওঠো। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়, তুমি সেভাবেই আজান দাও।’

এরপর হজরত বিলাল (রা.) আজান দেন। এ ঘটনা সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। (হাদিস: ৪৯৮)

আজান ও ইকামতের বাক্য

আজানের শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা হয় চারবার। এর অর্থ, ‘আল্লাহ মহান।’

এরপর বলা হয়, ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

এরপর ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল।’

এরপর ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ দুইবার বলা হয়। অর্থ, ‘নামাজের জন্য এসো।’

তারপর ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘কল্যাণের জন্য এসো।’

সবশেষে ‘আল্লাহু আকবার’ দুইবার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একবার বলা হয়।

ফজরের আজানে ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর পর অতিরিক্ত দুইবার বলা হয়, ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’। অর্থ, ‘ঘুম অপেক্ষা নামাজ উত্তম।’

আর ইকামতের ক্ষেত্রে আজানের অনুরূপ বাক্যগুলো পাঠ করার পাশাপাশি ‘কদ কামাতিস সালাহ’ বলা হয়, যার অর্থ নামাজের জামাত দাঁড়িয়ে গেছে বা নামাজ শুরু হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আজানের ইতিহাস: যেভাবে ইসলামে চালু হলো নামাজের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানাতে আজান দেওয়া হয়। যিনি আজান দেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়। নামাজের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি আজানেরও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়াই নামাজ আদায় করা হতো। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণের পর মুসলমানদের নামাজের জন্য একত্রিত করার একটি সুনির্দিষ্ট সংকেতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ বিষয়ে তিনি সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

সাহাবায়ে কেরাম নামাজের সময় মুসলমানদের একত্রিত করার উপায় নিয়ে পরামর্শ সভায় বসেন। সেখানে চারটি প্রস্তাব আসে। এগুলো হলো:

১. ঝান্ডা উড়ানো। ২. আগুন প্রজ্বলন করা। ৩. শিঙা বাজানো। ৪. ঢোল বাজানো।

তবে কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়নি। ঝান্ডা উড়ালে দূরে থাকা সবাই তা দেখতে পাবে না। আগুন প্রজ্বলন অগ্নিপূজকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শিঙা বাজানো খ্রিস্টানদের এবং ঢোল বাজানো ইহুদিদের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এগুলোও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পরামর্শ সভা শেষ হয়।

এদিকে সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) বিষয়টি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিন্তার কথা মাথায় রেখে ফিরে যান। এরপর তিনি স্বপ্নে আজানের বাক্যগুলো শিখতে দেখেন। পরদিন সকালে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে স্বপ্নের বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক এসে আমাকে আজান শিক্ষা দিলেন।’

একইভাবে হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-ও আজানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে তিনি বিষয়টি তখন প্রকাশ করেননি। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) স্বপ্নের বৃত্তান্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বলার পর ওমর (রা.)ও নিজের দেখা স্বপ্নের কথা জানান।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তুমি আগে বললে না কেন?’

ওমর (রা.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ এ বিষয়ে আগেই বলে দিয়েছেন। এ কারণে আমি লজ্জিত।’

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বিলাল (রা.)-কে ডেকে বলেন, ‘বিলাল, ওঠো। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়, তুমি সেভাবেই আজান দাও।’

এরপর হজরত বিলাল (রা.) আজান দেন। এ ঘটনা সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। (হাদিস: ৪৯৮)

আজান ও ইকামতের বাক্য

আজানের শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা হয় চারবার। এর অর্থ, ‘আল্লাহ মহান।’

এরপর বলা হয়, ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

এরপর ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল।’

এরপর ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ দুইবার বলা হয়। অর্থ, ‘নামাজের জন্য এসো।’

তারপর ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ দুইবার। অর্থ, ‘কল্যাণের জন্য এসো।’

সবশেষে ‘আল্লাহু আকবার’ দুইবার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একবার বলা হয়।

ফজরের আজানে ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর পর অতিরিক্ত দুইবার বলা হয়, ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’। অর্থ, ‘ঘুম অপেক্ষা নামাজ উত্তম।’

আর ইকামতের ক্ষেত্রে আজানের অনুরূপ বাক্যগুলো পাঠ করার পাশাপাশি ‘কদ কামাতিস সালাহ’ বলা হয়, যার অর্থ নামাজের জামাত দাঁড়িয়ে গেছে বা নামাজ শুরু হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ