বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের মাধ্যমে এ খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় দেশটি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের আয়োজনে এবং মানা বে ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সারাহ কুক বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক পক্ষকে একসঙ্গে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়। এতে দুই দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তাকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খাবার ও আতিথেয়তায় বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সিলেটের চা-বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কথা উল্লেখ করেন। এসব আকর্ষণ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সারাহ কুক বলেন, পর্যটন খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি দেশের পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটনের সঙ্গে বিমান চলাচলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, একজন পর্যটকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নয়, বরং বিমানের টিকিট কেনা, বিমানবন্দরে পৌঁছানো ও ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় থেকেই শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিনিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মানা বে ওয়াটার পার্ক ও সম্প্রতি চালু হওয়া ৯৫ কক্ষের মানা বে রিসোর্টসহ প্রকল্পটিতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ বিনিয়োগকে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিমান চলাচল খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ এবং ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাটও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
মন্তব্যসমূহ