ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মসজিদে ৯ বছরের শিশুকে আটকে জামায়াত সভাপতির যৌন নিপীড়ন

মসজিদে ৯ বছরের শিশুকে আটকে জামায়াত সভাপতির যৌন নিপীড়ন
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তবের ছুটি শেষে ৯ বছরের এক শিশুকে মসজিদের ভেতরে আটকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সি (৫৫) উপজেলার শেরপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি বলে জানা গেছে।

ঘটনার তিন দিন পর বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করেন। তবে এর আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো প্রায় ৩০ শিশু আরবি পড়তে যায়। ওই মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে মক্তব পড়িয়ে আসছিলেন বেলাল মুন্সি।

পরিবারের অভিযোগ, মক্তবের পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হলেও ওই শিশুকে কৌশলে মসজিদের ভেতরে রেখে দেন অভিযুক্ত। পরে অন্যরা চলে গেলে মসজিদের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে কাছে ডাকেন তিনি।

শিশুটির পরিবারের দাবি, এ সময় অভিযুক্ত তার হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। শিশুটি বাধা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি সেখান থেকে বের হয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে ফিরে কান্নারত অবস্থায় শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে তার মা স্থানীয় মাতবরকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা জানার পর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকও বসে। তবে তিন দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বুধবার স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

এরপর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দলবদ্ধভাবে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করেন। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় তিনি আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বেলাল মুন্সি বলেন, ওই দিন তিনি শিশুটিকে তার মোবাইল ফোনে একটি নম্বর সংরক্ষণ করতে বলেছিলেন। শিশুটি তা করতে না পারায় তিনি তাকে একটি চড় দেন। এরপর শিশুটি রাগ করে বাড়িতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বেলাল মুন্সি বলেন, তিনি নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকে চলে গেছেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুটির সুরক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ : নান্দাইল ময়মনসিংহ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মসজিদে ৯ বছরের শিশুকে আটকে জামায়াত সভাপতির যৌন নিপীড়ন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তবের ছুটি শেষে ৯ বছরের এক শিশুকে মসজিদের ভেতরে আটকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সি (৫৫) উপজেলার শেরপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি বলে জানা গেছে।

ঘটনার তিন দিন পর বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করেন। তবে এর আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো প্রায় ৩০ শিশু আরবি পড়তে যায়। ওই মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে মক্তব পড়িয়ে আসছিলেন বেলাল মুন্সি।

পরিবারের অভিযোগ, মক্তবের পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হলেও ওই শিশুকে কৌশলে মসজিদের ভেতরে রেখে দেন অভিযুক্ত। পরে অন্যরা চলে গেলে মসজিদের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে কাছে ডাকেন তিনি।

শিশুটির পরিবারের দাবি, এ সময় অভিযুক্ত তার হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। শিশুটি বাধা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি সেখান থেকে বের হয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে ফিরে কান্নারত অবস্থায় শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে তার মা স্থানীয় মাতবরকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা জানার পর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকও বসে। তবে তিন দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বুধবার স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

এরপর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দলবদ্ধভাবে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করেন। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় তিনি আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বেলাল মুন্সি বলেন, ওই দিন তিনি শিশুটিকে তার মোবাইল ফোনে একটি নম্বর সংরক্ষণ করতে বলেছিলেন। শিশুটি তা করতে না পারায় তিনি তাকে একটি চড় দেন। এরপর শিশুটি রাগ করে বাড়িতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বেলাল মুন্সি বলেন, তিনি নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকে চলে গেছেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুটির সুরক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ