ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুতিদের মুখোমুখি সৌদিকে একা ছেড়েছেন ট্রাম্প

অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার

হুতিদের মুখোমুখি সৌদিকে একা ছেড়েছেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইয়েমেনের হুতিদের একটি ‘পরাক্রমশালী সামরিক শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার বলেছেন, সৌদি আরবকে হুতিদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এখন কার্যত একা ছেড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া টুডেকে (আরটি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। RT International

‘নিউ অর্ডার’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আফশিন রাতানসির সঙ্গে আলাপকালে মিয়ারশেইমার বলেন, হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানো সৌদি আরবের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তার মূল্যায়নে, হুতিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর সামরিক বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রিয়াদ এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। RT International

মিয়ারশেইমারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগেও হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারেনি। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক। তবে এটি মিয়ারশেইমারের নিজস্ব বিশ্লেষণ; ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে বলেছে, তাদের অগ্রাধিকার লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্বে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। Axios

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদি আরব সানার বিমানবন্দরে হামলা চালানোর আগে ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে Axios জানিয়েছিল। ওই হামলার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০২২ সাল থেকে চলে আসা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। Axios

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হয়েছে। এই নৌপথ সৌদি তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। Reuters

এ পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক অভিযানে সম্মতি দেননি। Axios

গত সপ্তাহেও হুতি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত হামলা থেকে সরে আসে ওয়াশিংটন। Axios

মিয়ারশেইমারের মূল্যায়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা ছাড়া হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে তার এসব মন্তব্য বিশ্লেষণ ও মতামত; চলমান সংঘাতের গতিপথ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।

সূত্র: আরটি

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেন হুতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হুতিদের মুখোমুখি সৌদিকে একা ছেড়েছেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের হুতিদের একটি ‘পরাক্রমশালী সামরিক শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার বলেছেন, সৌদি আরবকে হুতিদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এখন কার্যত একা ছেড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া টুডেকে (আরটি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। RT International

‘নিউ অর্ডার’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আফশিন রাতানসির সঙ্গে আলাপকালে মিয়ারশেইমার বলেন, হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানো সৌদি আরবের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তার মূল্যায়নে, হুতিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর সামরিক বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রিয়াদ এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। RT International

মিয়ারশেইমারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগেও হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারেনি। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক। তবে এটি মিয়ারশেইমারের নিজস্ব বিশ্লেষণ; ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে বলেছে, তাদের অগ্রাধিকার লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্বে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। Axios

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদি আরব সানার বিমানবন্দরে হামলা চালানোর আগে ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে Axios জানিয়েছিল। ওই হামলার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০২২ সাল থেকে চলে আসা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। Axios

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হয়েছে। এই নৌপথ সৌদি তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। Reuters

এ পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক অভিযানে সম্মতি দেননি। Axios

গত সপ্তাহেও হুতি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত হামলা থেকে সরে আসে ওয়াশিংটন। Axios

মিয়ারশেইমারের মূল্যায়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা ছাড়া হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে তার এসব মন্তব্য বিশ্লেষণ ও মতামত; চলমান সংঘাতের গতিপথ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।

সূত্র: আরটি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ