চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে চীনা প্রেসিডেন্ট দেশে ফেরার পর ডেভিড পারডিউ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে শি জিনপিংয়ের কাছেও এ বিষয়ে আগ্রহ আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শি এ প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি।
শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, নিজেদের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই চীন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির নীতি নিয়ে আলোচনার সময় ডেভিড পারডিউ চীনকে অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনে চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির সুযোগ নেই। বেইজিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও ওয়াশিংটনের নেই বলে জানান তিনি।
পারডিউ বলেন, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের পর অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তুলনায় এই অনুমোদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র একসময় চীনের কাছে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। তবে ১৯৯০ সালের পর সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দ্বীপটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
মন্তব্যসমূহ