সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হকাররা। আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা হকারদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মহাসড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে দিতে হকারদের বলা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডিইপিজেড এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। এ সময় হকারদের একটি অংশ অভিযানে বাধা দেয় এবং চন্দ্রাগামী লেন অবরোধ করে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে হকারদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
তবে হকারদের পক্ষ থেকে ভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, আনসার সদস্যরা তাদের কাছে চাঁদা চেয়েছেন। সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন হকার। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে হকারদের উচ্ছেদ ও হয়রানি করা হচ্ছে। ফুটপাতে ব্যবসা করেই তাদের জীবিকা চলে। কয়েক দিন ধরে সেখানে ব্যবসা করতে না দেওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে গেলে হকাররা বাধা দিয়ে চন্দ্রাগামী লেন অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
তিনি জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ