কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের বহন করা একটি ইজিবাইক থেকে রাইফেল, দেশীয় বন্দুক, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ওয়াকিটকি ও টেজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে বিজিবি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক তিনজন হলেন উখিয়ার ১ নম্বর কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, একই ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী এবং টেকনাফের ২৬ নম্বর ক্যাম্পের মোচনি এলাকার ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম।
বিজিবির দাবি, তাদের কাছ থেকে দুটি জি৩ রাইফেল, একটি বড় ও একটি ছোট দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন এবং চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, একটি ইজিবাইক, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার হয়ে ভারী অস্ত্রের একটি চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে তিন ব্যক্তিকে একটি ইজিবাইকে সন্দেহজনকভাবে লেদা বাজার এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা ইজিবাইকটিকে থামার সংকেত দেন।
পরে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। অধিকতর তল্লাশির জন্য তিনজনকে ইজিবাইকসহ লেদা বিওপিতে নেওয়া হয়।
সেখানে ইজিবাইকটি তল্লাশি করে আলুর বস্তার ভেতরে লুকানো অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই জায়গা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা টেজার এবং অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
অস্ত্রের চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মন্তব্যসমূহ