ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সংবিধানে ফিরবে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে ফিরবে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও আমরা ধারণ করবো। সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ আমরা ফিরিয়ে আনবো।’

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারেরও প্রতিশ্রুতি বলে জানান তিনি। ঐতিহাসিকভাবে এ বিধানটি সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এর মতো কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে সংসদে বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহজে বাতিল করার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়েও বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন এই ব্যবস্থা সহজে বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়েও ধারণা দেন বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনী বিল প্রস্তুত করবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন হতে পারে। সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিল পাস হলে যেসব পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিকভাবে গণভোট প্রয়োজন, সেগুলো গণভোটের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মধ্যে সংশোধনের খসড়া প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ট্যাগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান জুলাই জাতীয় সনদ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবিধানে ফিরবে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও আমরা ধারণ করবো। সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ আমরা ফিরিয়ে আনবো।’

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারেরও প্রতিশ্রুতি বলে জানান তিনি। ঐতিহাসিকভাবে এ বিধানটি সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এর মতো কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে সংসদে বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহজে বাতিল করার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়েও বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন এই ব্যবস্থা সহজে বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়েও ধারণা দেন বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনী বিল প্রস্তুত করবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন হতে পারে। সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিল পাস হলে যেসব পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিকভাবে গণভোট প্রয়োজন, সেগুলো গণভোটের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মধ্যে সংশোধনের খসড়া প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ