বঙ্গোপসাগরের নিচে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরের একদিকে মিয়ানমার এবং অন্যদিকে ভারত গ্যাস উত্তোলন করছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের বামদিকে মিয়ানমার গ্যাস তুলতেছে অন্যদিকে ডানদিকে ভারত তুলতেছে। বঙ্গোপসাগরের নিচে প্রচণ্ড গ্যাসের ভাণ্ডার আছে।’
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, দেশের গ্যাসসম্পদ যথাযথভাবে উত্তোলনের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংকটে পড়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আমাদের গ্যাস নিচ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ফ্যাসিস্টরা দেখেননি। কারণ তাদের গুরুজনদের রাগ হবে, এইজন্য তুলেন নাই। এজন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের গ্যাস নাই। আটটি গ্যাসের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছিল তারা দেখানোর জন্য।’
এসব বক্তব্য মন্ত্রীর নিজস্ব দাবি ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। বঙ্গোপসাগরের গ্যাসের মজুত বা অন্য দেশ বাংলাদেশের গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে, এমন দাবির পক্ষে এ বক্তব্যে কোনো কারিগরি জরিপ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই গ্যাস ব্যবহার করে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও গত আগস্টে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
সারের সরবরাহ নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার দাবি, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং কোনো উপজেলায় সারের সংকট নেই। তবে কিছু এলাকায় আগের ডিলারদের বিরুদ্ধে সার অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে একজন সার ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার অধীনে আরও তিনজন সাব-ডিলার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, এসব প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে ব্যয় করতে হয়েছে।
তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। চীনের সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর কয়েক দিন আগেও তিনি তিস্তা ও নদী উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার কথা বলেছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মানিকগঞ্জ জেলা শহরে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলেও অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ