ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্বাধীন ফিলিস্তিন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া

স্বাধীন ফিলিস্তিন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ফিলিস্তিন সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে জাকার্তা।

শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইন্দোনেশিয়ার এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সুগিওনো বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটাতে হবে। গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা ও জেনেভা কনভেনশনের মতো আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

নিজ দেশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন এবং শক্তিশালী পক্ষের আধিপত্য কেমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সে অভিজ্ঞতা ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে।

তার মতে, স্বাধীনতা অর্জনের সেই অভিজ্ঞতাই ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের অন্যতম ভিত্তি।

সুগিওনো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাঠামোর ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের সংকট নয়। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যে নীতিগুলো রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, প্রয়োজনের সময় সেই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে কি না, ফিলিস্তিন সংকট তারও পরীক্ষা।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, বর্তমান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার দুর্বলতার সমাধান বহুপক্ষীয়তা কমানো নয়; বরং এটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কার্যকর করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ২০২৯-৩০ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতার কথাও তুলে ধরেন সুগিওনো। শান্তি এগিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ বজায় রাখা এবং ঐকমত্য তৈরিতে তার দেশ কাজ করতে চায় বলে জানান তিনি।

আসিয়ান, জি২০, ডি-৮, ব্রিকস ও মিকতার মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মেও একই নীতিতে ইন্দোনেশিয়া কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন সুগিওনো।

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সুগিওনো বলেন, ইউনিফিল মিশনের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকার শেষ হবে না।

নিজ দেশের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণকে কেন্দ্র করে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগ : ফিলিস্তিন জাতিসংঘ ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বাধীন ফিলিস্তিন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিন সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে জাকার্তা।

শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইন্দোনেশিয়ার এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সুগিওনো বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটাতে হবে। গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা ও জেনেভা কনভেনশনের মতো আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

নিজ দেশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন এবং শক্তিশালী পক্ষের আধিপত্য কেমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সে অভিজ্ঞতা ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে।

তার মতে, স্বাধীনতা অর্জনের সেই অভিজ্ঞতাই ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের অন্যতম ভিত্তি।

সুগিওনো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাঠামোর ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের সংকট নয়। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যে নীতিগুলো রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, প্রয়োজনের সময় সেই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে কি না, ফিলিস্তিন সংকট তারও পরীক্ষা।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, বর্তমান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার দুর্বলতার সমাধান বহুপক্ষীয়তা কমানো নয়; বরং এটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কার্যকর করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ২০২৯-৩০ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতার কথাও তুলে ধরেন সুগিওনো। শান্তি এগিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ বজায় রাখা এবং ঐকমত্য তৈরিতে তার দেশ কাজ করতে চায় বলে জানান তিনি।

আসিয়ান, জি২০, ডি-৮, ব্রিকস ও মিকতার মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মেও একই নীতিতে ইন্দোনেশিয়া কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন সুগিওনো।

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সুগিওনো বলেন, ইউনিফিল মিশনের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকার শেষ হবে না।

নিজ দেশের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণকে কেন্দ্র করে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ