অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে একদিনে ১ হাজার ১৪৩ জন ইসরায়েলি প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাদের অনেকে ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় সেখানে ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার পালন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেরুজালেম গভর্নরেটের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম।
গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলিরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে মাগরিবি গেট দিয়ে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর কয়েকটি স্থানে প্রার্থনা, ধর্মীয় গান, নাচ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। কয়েকজন ইসরায়েলি সেখানে উদ্ভিদজাত ধর্মীয় উপকরণও নিয়ে যান বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগতভাবে প্রচলিত ‘স্ট্যাটাস কুও’ বা স্থিতাবস্থার লঙ্ঘন।
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান। একই এলাকা ইহুদিদের কাছেও পবিত্র এবং তারা এটিকে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে উল্লেখ করে।
দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় মুসলমানরা সেখানে নামাজ আদায় করেন। অমুসলিমদের নির্দিষ্ট নিয়মে প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের সুযোগ থাকলেও সেখানে প্রকাশ্যে প্রার্থনার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলিদের প্রবেশ এবং প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৬৬১ জন ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন।
এদিকে আল-আকসাকে ঘিরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল। তার দাবি, এসব পদক্ষেপ পবিত্র স্থানটির ওপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে।
আল-আকসার প্রবেশাধিকার ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের নিয়মে যেকোনো পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অতীতেও জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাই মসজিদ প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক ও আইনগত স্থিতাবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্যসমূহ