জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন জানান, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি এবং ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ ছিল সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের নিয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
তিনি জানান, এসব পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্প তুলে ধরেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের মূল বিতর্কের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবিলা, ন্যায়সঙ্গত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবা নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তির পাশাপাশি ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়েও ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছে বলেও দাবি করেন মাহ্দী আমিন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সফরে যেসব নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো এখন বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে একটি স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ