ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঘুমন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপের কামড়

ঘুমন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপের কামড়
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত এক শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপ কামড় দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সাপের কামড়ে আহত শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ভোরে ঘুমন্ত নুরনবীর বিছানায় উঠে সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। পরে তাকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়।

নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সাপের কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নুরনবী ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করতে থাকেন। পরে তারা উঠে কালাচ সাপটি দেখতে পান। এ সময় রুমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত রাবি মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ ও প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন কামড় দেওয়ার পর হয়তো অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মৃত্যুর পর আশ্বাস দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।’

এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘এর আগেও হলে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে, সাপ প্রতিরোধে সার্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সামনের দুই পাশে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে রুমে ঢুকেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে সাপ প্রতিরোধে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। ইতোমধ্যে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারাও হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছি।’

এদিকে এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে মশারির ওপর থাকা একটি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হল কর্তৃপক্ষ আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করাসহ সাপ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

তবে এর পরও একই হলে শিক্ষার্থীর কক্ষে সাপ ঢুকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘুমন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপের কামড়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত এক শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপ কামড় দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সাপের কামড়ে আহত শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ভোরে ঘুমন্ত নুরনবীর বিছানায় উঠে সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। পরে তাকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়।

নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সাপের কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নুরনবী ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করতে থাকেন। পরে তারা উঠে কালাচ সাপটি দেখতে পান। এ সময় রুমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত রাবি মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ ও প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন কামড় দেওয়ার পর হয়তো অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মৃত্যুর পর আশ্বাস দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।’

এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘এর আগেও হলে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে, সাপ প্রতিরোধে সার্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সামনের দুই পাশে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে রুমে ঢুকেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে সাপ প্রতিরোধে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। ইতোমধ্যে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারাও হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছি।’

এদিকে এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে মশারির ওপর থাকা একটি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হল কর্তৃপক্ষ আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করাসহ সাপ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

তবে এর পরও একই হলে শিক্ষার্থীর কক্ষে সাপ ঢুকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ