ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশে প্রচলিত ১০০০ টাকার নোট বাতিলসহ মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে পাঠানো নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দেওয়া হয়েছে।

আইনি নোটিশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবিও করেছেন নোটিশদাতা।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত সম্পদ বা বৈদেশিক মুদ্রার সমর্থন ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থায় নতুন মুদ্রা ইস্যুর বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্য মজুত রাখা বাধ্যতামূলক—নোটিশে উত্থাপিত এ বক্তব্যটি সর্বজনস্বীকৃত বর্তমান মুদ্রানীতির নিয়ম নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী নোট ইস্যুর বিপরীতে নির্ধারিত ধরনের সম্পদ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে, তবে তা সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যের মজুতের সঙ্গে সরাসরি আবদ্ধ নয়।

নোটিশদাতার দাবি, মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন তিনি।

১০০০ টাকার নোটের ব্যবহার নিয়েও নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, দৈনন্দিন ছোট লেনদেনে উচ্চমূল্যের এ নোটের প্রয়োজন তুলনামূলক কম এবং অবৈধ অর্থ নগদে সংরক্ষণে এ ধরনের নোট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে কালো টাকা ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ১০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এসব বক্তব্য নোটিশদাতার দাবি; নোট বাতিল করলে কালো টাকা নির্মূল হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক ২০২৩ সালে ২ হাজার রুপির নোট প্রচলন থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেটি ২০১৬ সালের নোটবন্দির মতো তাৎক্ষণিকভাবে নোটের বৈধ মুদ্রার মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল না; ২ হাজার রুপির নোটের বৈধতা বহাল রাখা হয়েছিল।

আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

আইনি নোটিশ পাঠানোর অর্থ ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি অর্থ মন্ত্রণালয় আইনি নোটিশ

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে প্রচলিত ১০০০ টাকার নোট বাতিলসহ মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে পাঠানো নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দেওয়া হয়েছে।

আইনি নোটিশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবিও করেছেন নোটিশদাতা।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত সম্পদ বা বৈদেশিক মুদ্রার সমর্থন ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থায় নতুন মুদ্রা ইস্যুর বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্য মজুত রাখা বাধ্যতামূলক—নোটিশে উত্থাপিত এ বক্তব্যটি সর্বজনস্বীকৃত বর্তমান মুদ্রানীতির নিয়ম নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী নোট ইস্যুর বিপরীতে নির্ধারিত ধরনের সম্পদ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে, তবে তা সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যের মজুতের সঙ্গে সরাসরি আবদ্ধ নয়।

নোটিশদাতার দাবি, মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন তিনি।

১০০০ টাকার নোটের ব্যবহার নিয়েও নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, দৈনন্দিন ছোট লেনদেনে উচ্চমূল্যের এ নোটের প্রয়োজন তুলনামূলক কম এবং অবৈধ অর্থ নগদে সংরক্ষণে এ ধরনের নোট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে কালো টাকা ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ১০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এসব বক্তব্য নোটিশদাতার দাবি; নোট বাতিল করলে কালো টাকা নির্মূল হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক ২০২৩ সালে ২ হাজার রুপির নোট প্রচলন থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেটি ২০১৬ সালের নোটবন্দির মতো তাৎক্ষণিকভাবে নোটের বৈধ মুদ্রার মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল না; ২ হাজার রুপির নোটের বৈধতা বহাল রাখা হয়েছিল।

আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

আইনি নোটিশ পাঠানোর অর্থ ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ