ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার, উপস্থিত ছিলেন কিম

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার, উপস্থিত ছিলেন কিম
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

নতুন ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে পরীক্ষা করার দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং-উন সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষাটি পর্যবেক্ষণ করেন। পিয়ংইয়ং বলছে, নতুন এই প্রযুক্তি তাদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, দেশটির মিসাইল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রোববার নতুন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তবে অস্ত্রটির ধরন ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, রোববার উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ওনসান এলাকা থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পূর্ব সাগর বা জাপান সাগরের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাথমিক হিসাবে একটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এবং অন্যটি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে।

উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত ছবিতে সড়কপথে চলাচলযোগ্য একটি লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সামনের অংশের নকশা দেখে কয়েকজন বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এতে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ধরনের প্রযুক্তি থাকতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে অস্ত্রটির পূর্ণ কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করেনি। ফলে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।

পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের পর কিম জং-উন নতুন অস্ত্রটিকে উত্তর কোরিয়ার উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কেসিএনএর বরাতে তিনি দাবি করেন, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেশের প্রতিপক্ষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ‘মাথাব্যথা’ তৈরি করবে এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক মহড়া নিয়ে পিয়ংইয়ং তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি ‘প্যাসিফিক ভ্যানগার্ড ২০২৬’ নৌমহড়ার সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া বলেছিল, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ওই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড অংশ নেয়।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উদ্বেগ জানিয়েছে। পরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থাটি তাদের অস্ত্র প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এর পূর্ণ সক্ষমতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়ন এখনো সীমিত।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিম জং-উন

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার, উপস্থিত ছিলেন কিম

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নতুন ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে পরীক্ষা করার দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং-উন সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষাটি পর্যবেক্ষণ করেন। পিয়ংইয়ং বলছে, নতুন এই প্রযুক্তি তাদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, দেশটির মিসাইল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রোববার নতুন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তবে অস্ত্রটির ধরন ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, রোববার উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ওনসান এলাকা থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পূর্ব সাগর বা জাপান সাগরের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাথমিক হিসাবে একটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এবং অন্যটি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে।

উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত ছবিতে সড়কপথে চলাচলযোগ্য একটি লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সামনের অংশের নকশা দেখে কয়েকজন বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এতে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ধরনের প্রযুক্তি থাকতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে অস্ত্রটির পূর্ণ কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করেনি। ফলে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।

পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের পর কিম জং-উন নতুন অস্ত্রটিকে উত্তর কোরিয়ার উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কেসিএনএর বরাতে তিনি দাবি করেন, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেশের প্রতিপক্ষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ‘মাথাব্যথা’ তৈরি করবে এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক মহড়া নিয়ে পিয়ংইয়ং তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি ‘প্যাসিফিক ভ্যানগার্ড ২০২৬’ নৌমহড়ার সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া বলেছিল, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ওই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড অংশ নেয়।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উদ্বেগ জানিয়েছে। পরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থাটি তাদের অস্ত্র প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এর পূর্ণ সক্ষমতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়ন এখনো সীমিত।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ