ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজার তদারকি জোরদারে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করা হয়। বাংলাদেশে সরকার মূল্য নির্ধারণ করায় দাম বাড়ানোর বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হলে সেটির প্রভাব বাজারমূল্যে পড়তে পারে। এ কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা ও অসংগতি শনাক্ত করে তা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য, জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে অন্য পণ্যের মূল্য যাতে অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

সম্প্রতি আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা কেটে গেছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামালনির্ভর বিভিন্ন কারখানার উৎপাদনও স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে চিনি ও সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তার মতে, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এদিকে অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়। এ সময় চা শিল্পকে আরও লাভজনক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের অব্যবহৃত বা উপযোগী জায়গায় কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ বিকল্প ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় বাগানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চা বাগানের আয় বাড়ানো গেলে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ : জ্বালানি তেল বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজার তদারকি জোরদারে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করা হয়। বাংলাদেশে সরকার মূল্য নির্ধারণ করায় দাম বাড়ানোর বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হলে সেটির প্রভাব বাজারমূল্যে পড়তে পারে। এ কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা ও অসংগতি শনাক্ত করে তা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য, জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে অন্য পণ্যের মূল্য যাতে অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

সম্প্রতি আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা কেটে গেছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামালনির্ভর বিভিন্ন কারখানার উৎপাদনও স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে চিনি ও সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তার মতে, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এদিকে অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়। এ সময় চা শিল্পকে আরও লাভজনক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের অব্যবহৃত বা উপযোগী জায়গায় কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ বিকল্প ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় বাগানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চা বাগানের আয় বাড়ানো গেলে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ