ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত: মামদানি

নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত: মামদানি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা যে তার নেই, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গ্রেসি ম্যানশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাতেও নেতানিয়াহুর বিষয়টি উঠেছিল বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দায়ী করেন। এটি মামদানির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি নেতানিয়াহু ও তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বাস করার ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহার ব্যবহার এবং হত্যা ও নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ রয়েছে।

তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানি নিজে এই পরোয়ানা কার্যকর করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং দেশটির আইনি কাঠামোয় আইসিসির পরোয়ানা সরাসরি কার্যকর করার ব্যবস্থা নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সফরের সময় নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা মেয়রের হাতে নেই।

মামদানি এর আগেও নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুর সফর ঠেকানো বা তাকে গ্রেপ্তার করার সরাসরি ক্ষমতা তার নেই। এবার তিনি মূলত আইসিসির পরোয়ানাকে সম্মান করার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠকে নিউইয়র্কের আবাসন সংকট, অভিবাসন এবং কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন দুজন। ট্রাম্পও মামদানির মেয়র হিসেবে সফলতা কামনা করেন।

মামদানি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চান তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নিউইয়র্ক জোহরান মামদানি

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত: মামদানি

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা যে তার নেই, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গ্রেসি ম্যানশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাতেও নেতানিয়াহুর বিষয়টি উঠেছিল বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দায়ী করেন। এটি মামদানির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি নেতানিয়াহু ও তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বাস করার ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহার ব্যবহার এবং হত্যা ও নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ রয়েছে।

তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানি নিজে এই পরোয়ানা কার্যকর করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং দেশটির আইনি কাঠামোয় আইসিসির পরোয়ানা সরাসরি কার্যকর করার ব্যবস্থা নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সফরের সময় নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা মেয়রের হাতে নেই।

মামদানি এর আগেও নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুর সফর ঠেকানো বা তাকে গ্রেপ্তার করার সরাসরি ক্ষমতা তার নেই। এবার তিনি মূলত আইসিসির পরোয়ানাকে সম্মান করার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠকে নিউইয়র্কের আবাসন সংকট, অভিবাসন এবং কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন দুজন। ট্রাম্পও মামদানির মেয়র হিসেবে সফলতা কামনা করেন।

মামদানি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চান তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ