দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনশীল করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী গবেষণায় উৎসাহ দিতে প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতিতে গবেষক ও বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান তৈরিতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে মেধা ও শ্রম দিচ্ছেন। এসব গবেষণা ও উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতেও নতুন গবেষণায় উৎসাহ পান।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করা এবং রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণা শুধু পরীক্ষাগার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর ব্যবস্থাও করতে হবে।
মন্ত্রী বিশেষভাবে খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, গবেষণার প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সরাসরি উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সভায় বিএলআরআইয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।