আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটভুক্ত না হয়ে সম্পূর্ণ একক শক্তিতে অংশ নেবে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নুরুল হক নুর বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আমলের মতো ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ব্যালটে অবৈধ সিল মারার মতো প্রহসনের নির্বাচন হবে না। এটি হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। তাই গণঅধিকার পরিষদ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুরো জাতি যখন একটি সাম্য ও ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, তখন জামায়াতের মতো উগ্রবাদীরা দেশকে ভারতের মতো একটি উগ্র রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।’
ডিসেম্বরে সরকার পরিবর্তনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসি আসি বলে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের জানা উচিত—ডিসেম্বর আসবে এবং যাবে, কিন্তু তাদের আর কোনো দিন ক্ষমতায় ফেরা হবে না। যারা ডিসেম্বরের বুলি আওড়ে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং কথিত এক দফার কথা বলছে, তাদের এই দুঃস্বপ্ন রুখে দেওয়া হবে।’
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ আপনাদের সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে প্রস্তুত। তাই জামায়াতের কোল থেকে নেমে প্রগতিশীল চিন্তার রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদের সাথে শামিল হন।’
এনসিপি থেকে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ নেতৃত্বের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, উগ্রবাদী ও নব্য ফ্যাসিবাদের প্রতিভূ জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই সামান্তা শারমিন ও তাসনিম জারাসহ একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ নেতৃত্ব এনসিপি ত্যাগ করছেন।














মন্তব্যসমূহ