ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের সঠিক পথ নির্ধারণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘যারা ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে হরণ করে দেশে একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচার কায়েম করতে চেয়েছিল এবং আমাদের শৌর্য, বীর্য, জাতীয় সাহস ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল—১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার সম্মিলিত ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল।’ তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর ছিল এ জাতির ইতিহাসে দেশপ্রেমিক শক্তি এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শত্রু-মিত্র সঠিকভাবে চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে তিনি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদবাক্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ।’ তাই সার্বক্ষণিক অতীত চর্চায় মগ্ন থাকা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ইতিহাসের শিক্ষা বিস্মৃত হওয়াও একটি জাতির জন্য আত্মঘাতী ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস স্পষ্ট সাক্ষ্য দেয় যে দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় পরাজিত সেই ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী পরবর্তীতে মহাজোটের আবরণে একত্রিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তারা বিডিআর পিলখানায় সুপরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় এবং দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। তবে হাজারো শহীদের রক্তের ঋণ এবং ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের বিপ্লবের মেলবন্ধন টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালেও দেশপ্রেমিক সিপাহি ও মুক্তিকামী জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি দোসররা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো পরশক্তির তাঁবেদারে পরিণত করতে না পারে—সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান জাতীয় অঙ্গীকার। আর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন দল-মত নির্বিশেষে দৃঢ় ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—সবগুলোর মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি স্বনির্ভর, ইনসাফভিত্তিক ও নিরাপদ জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বাণীর সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক চক্রান্ত রুখে দিতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হওয়া উচিত—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক প্রেরণা আগামীর একটি আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

জাতীয়

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
শুক্রবার৬
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫০ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৭ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪২ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৯ বিকাল
  • এশা৬:৩৫ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৭ ভোরইফতার ৫:১৯ বিকাল

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের সঠিক পথ নির্ধারণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘যারা ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে হরণ করে দেশে একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচার কায়েম করতে চেয়েছিল এবং আমাদের শৌর্য, বীর্য, জাতীয় সাহস ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল—১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার সম্মিলিত ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল।’ তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর ছিল এ জাতির ইতিহাসে দেশপ্রেমিক শক্তি এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শত্রু-মিত্র সঠিকভাবে চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে তিনি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদবাক্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ।’ তাই সার্বক্ষণিক অতীত চর্চায় মগ্ন থাকা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ইতিহাসের শিক্ষা বিস্মৃত হওয়াও একটি জাতির জন্য আত্মঘাতী ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস স্পষ্ট সাক্ষ্য দেয় যে দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় পরাজিত সেই ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী পরবর্তীতে মহাজোটের আবরণে একত্রিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তারা বিডিআর পিলখানায় সুপরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় এবং দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। তবে হাজারো শহীদের রক্তের ঋণ এবং ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের বিপ্লবের মেলবন্ধন টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালেও দেশপ্রেমিক সিপাহি ও মুক্তিকামী জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি দোসররা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো পরশক্তির তাঁবেদারে পরিণত করতে না পারে—সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান জাতীয় অঙ্গীকার। আর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন দল-মত নির্বিশেষে দৃঢ় ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—সবগুলোর মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি স্বনির্ভর, ইনসাফভিত্তিক ও নিরাপদ জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বাণীর সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক চক্রান্ত রুখে দিতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হওয়া উচিত—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক প্রেরণা আগামীর একটি আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ