একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখা এবং ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং যাবতীয় ষড়যন্ত্রের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে; যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সাম্য, মানবিক ন্যায্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য সন্ধিক্ষণ। তৎকালীন তাঁবেদারি শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী চক্রান্তের কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার অভাবনীয় বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হয়। এর মধ্য দিয়ে সকল জাতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তীতে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও গভীর জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়, যেখানে জাতির ক্রান্তিকালে তিনি ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছিলেন।’
সিপাহি ও জনতার এই সংহতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বদা জনগণের পাশে থেকেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেই একই চেতনা নতুন করে পুনর্জাগরিত হয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে। সে সময় ছাত্র, সাধারণ নাগরিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং প্রিয় স্বদেশ আবারও একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
রাষ্ট্রপতি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৫-এর বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় শহীদ জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের করে আনেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করেন।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, বারবার চক্রান্তের শিকার হয়ে দেশে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হলেও আজ সকলের ঐক্যবদ্ধ ত্যাগের বিনিময়ে নির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে টেকসই ও চিরস্থায়ী করতে রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।














মন্তব্যসমূহ