ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে বা দলটির পুনর্বাসন ঘটবে—এমন তথ্যকে সাধারণ কোনো প্রচার নয়, বরং দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ‘দিল্লির প্রোপাগান্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রত্যাবর্তনের কোনো বাস্তব সুযোগ নেই; বরং বর্তমান সরকার গত আট মাস ধরে নানাভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনানুষ্ঠানিক সুযোগ করে দিচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় জয়পুরহাট শহরের স্বপ্ন ছায়া কমিউনিটি সেন্টারে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও শাসনপদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা ছিল কার্যকর গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশের পূর্ণ অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ এনে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সামান্য সমালোচনা করায় সাংবাদিকসহ বিরোধী মতের বহু নাগরিককে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মারধর ও নানামুখী নির্যাতন করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক গণ-আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দিয়ে সরকার কেবল একটি তথাকথিত সাংবিধানিক সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও ভণ্ডুল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ এই সরকার জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছিল।
সাম্প্রতিক তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন সরকারের সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি ও উদাসীনতার প্রমাণ। সরকারের এই সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী ও চক্রান্তকারী মহল মাঠপর্যায়ে অন্তর্ঘাত ও নাশকতার সুযোগ নিয়েছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহাদী, জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রুঞ্জু এবং সদস্য সচিব ইসমাঈল হোসেন হাদীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।














মন্তব্যসমূহ