ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীন সফরে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চীন সফরে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার বেইজিংয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।

চীনের স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে, তিনটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং একটি দুই দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সফরের ভিত্তিতে ১৬ দফা সম্বলিত একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন সমঝোতা, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পুনরায় সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়িয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, সবুজ জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, সড়ক, রেল ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়েও সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রয়োজন হলে চীন সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারেও দুই দেশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। চীনা ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ, সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : চীন সফর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চীন সফরে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার বেইজিংয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।

চীনের স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে, তিনটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং একটি দুই দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সফরের ভিত্তিতে ১৬ দফা সম্বলিত একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন সমঝোতা, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পুনরায় সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়িয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, সবুজ জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, সড়ক, রেল ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়েও সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রয়োজন হলে চীন সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারেও দুই দেশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। চীনা ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ, সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ