ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটি অসাধু চক্র ভুল তথ্য ও ভুয়া চাহিদাপত্র ছড়িয়ে শ্রমবাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশের সদস্যরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মালয়েশিয়ায় নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুত কর্মী পাঠানোর পক্ষে থাকা বায়রা সদস্যরা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শুরুতে ২৫টি লাইসেন্স অনুমোদন পেলেও পরবর্তী আলোচনায় যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য লাইসেন্সকে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) আওতায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এটিকে সিন্ডিকেশন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী সক্ষম ও আগ্রহী লাইসেন্সধারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বায়রার ওই অংশের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে মালয়েশিয়া ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এজেন্সি নির্বাচন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা। তাদের দাবি, এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্তের ভিত্তিতেই এজেন্সিগুলোকে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতীতের কর্মী পাঠানোর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭-১৮ সময়ে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বোয়েসেলসহ ১০১টি মূল ও ২৫০টি সহযোগী এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই সময়ে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।

বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, কর্মী পাঠাতে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের প্রচারণা দেশের শ্রমবাজার ও ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আগের প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে না পারা কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য প্রচার করছে। তবে এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বায়রা সদস্যদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাধীন বক্তব্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে স্বচ্ছতা, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা।

ট্যাগ : মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মী

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটি অসাধু চক্র ভুল তথ্য ও ভুয়া চাহিদাপত্র ছড়িয়ে শ্রমবাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশের সদস্যরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মালয়েশিয়ায় নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুত কর্মী পাঠানোর পক্ষে থাকা বায়রা সদস্যরা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শুরুতে ২৫টি লাইসেন্স অনুমোদন পেলেও পরবর্তী আলোচনায় যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য লাইসেন্সকে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) আওতায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এটিকে সিন্ডিকেশন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী সক্ষম ও আগ্রহী লাইসেন্সধারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বায়রার ওই অংশের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে মালয়েশিয়া ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এজেন্সি নির্বাচন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা। তাদের দাবি, এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্তের ভিত্তিতেই এজেন্সিগুলোকে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতীতের কর্মী পাঠানোর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭-১৮ সময়ে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বোয়েসেলসহ ১০১টি মূল ও ২৫০টি সহযোগী এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই সময়ে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।

বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, কর্মী পাঠাতে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের প্রচারণা দেশের শ্রমবাজার ও ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আগের প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে না পারা কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য প্রচার করছে। তবে এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বায়রা সদস্যদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাধীন বক্তব্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে স্বচ্ছতা, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ