আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে জাপান। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে দলটি। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।
ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ‘সুজুকি কাপ’। এক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি মঙ্গলবার জাপানের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ভারত শীর্ষস্থানে থাকলেও জাপানের অবস্থান ৪১তম। বাছাইপর্বের বাইরে এত বড় র্যাঙ্কিং ব্যবধানের দুটি দলের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও বিশেষ নজর কাড়ছে।
ক্রিকেটের তুলনায় জাপানে বেসবলের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দর্শক চাহিদার কারণে সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় তিন হাজার করা হয়েছে। এরপরও টিকিট ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়।
আসন্ন এশিয়ান গেমসের আগে ম্যাচটি দুই দলের প্রস্তুতিরও অংশ। এশিয়ান গেমসের নিয়ম অনুসরণ করে জাপান তাদের দল সাজিয়েছে। ফলে অভিষেক আনন্দ, ইসাম রহমান, আব্দুল সামাদ ও সাবোরিশ রবিচন্দ্রনের মতো কয়েকজন নিয়মিত ক্রিকেটার এই ম্যাচের দলে নেই।
তাদের অনুপস্থিতিতে লাচলান ইয়ামামোতো-লেক, মাকোতো তানিয়ায়া ও ওয়াতারু মিয়াউচির মতো তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচ তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ হতে যাচ্ছে।
আইসিসি ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাপানের অলরাউন্ডার বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করা এবং দেশটিতে ক্রিকেটের প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারা তার জন্য সম্মানের। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই দলের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ম্যাচটি তাই জাপানের জন্য শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি নয়। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামার মাধ্যমে দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।