ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ২০টিরও বেশি আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এটি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। অঞ্চলটিকে দুর্যোগ কবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ একে ‘প্রকৃত ট্র্যাজেডি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। ম্যাকুটো শহরের সমুদ্রতীরবর্তী একটি বড় হোটেল সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
কাতিয়া লা মার শহর থেকেও বহু ভবন ধসে পড়া এবং উঁচু ভবনের ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পে গুরুতর অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে লা গুয়াইরায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ, ধুলাবালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার চিত্রও দেখা গেছে।
রাজধানী কারাকাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বারুতা পৌর এলাকায় দুটি ভবন ধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিকোলাস মাদুরো গেরা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত চারটি ভবন ধসে পড়েছে।
উত্তর কারাকাসের সান বেরনার্দিনো এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবন ধসের সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
পূর্ব কারাকাসের চাকাও এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত দুটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও অনেক ভবন কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৫০০-র বেশি জরুরি সেবা কর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এ ছাড়া আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফালকোন রাজ্যেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। এসব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন














মন্তব্যসমূহ