রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মীর্জা মোখলেছুর রহমান, মীর্জা আরজু, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোশারফ হোসেন, মোক্তার হোসেন, মো. আনোয়ার হোসেন আনা এবং বায়জিদ ইসলাম।
পুলিশের দাবি, তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন।
তদন্ত আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং আসামিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পৃথকভাবে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করা হবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর একই মামলায় ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। পরে আরও কয়েক দফায় আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান থানার একটি এলাকায় আওয়ামী লীগ, এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে স্লোগান দেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশের দিকেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এরপর সমবেতরা সেখান থেকে সরে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।