ঢাকা ওয়াসা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছে যে সিটি করপোরেশন তাদের রাস্তা কাটার অনুমতি দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ টাইলস মার্কেটের সামনে ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নতুন রাস্তা নির্মাণে বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়েছে। অনেক স্থানে আট ফুট নিচ থেকে আবর্জনা ও পলিথিন সরিয়ে মাটি শক্তভাবে কম্প্যাক্ট করে রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। এমন একটি রাস্তা নির্মাণের কয়েকদিন পরই কেটে ফেললে পুরো কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ কারণেই ওয়াসাকে বিকল্প কোনো পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়, রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ইনার সার্কুলার রিং রোডের প্রথম ধাপের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সড়কটি পোস্তগোলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে মোট আট লেন থাকবে। উপরে চার লেন এবং নিচে চার লেনের পাশাপাশি থাকবে প্রায় ১০ কিলোমিটার ফুটপাত ও ১০ কিলোমিটার ড্রেন।
প্রকল্পের আওতায় তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার ব্রিজ, আটটি স্লুইস গেট এবং প্রায় দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পথচারী ও গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের সুবিধায় ছয়টি বাস বে, ছয়টি যাত্রীছাউনি এবং তিনটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি বড় টাওয়ার স্থানান্তরেরও প্রয়োজন হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক প্রকল্পের নির্মাণকাজের মানের প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
আব্দুস সালাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। ঢাকার চারপাশে রিং রোড, নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশন, নদীর পাড়ে হাঁটার পথ এবং বৃক্ষরোপণের বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো সংস্থার যদি রাস্তার নিচে পাইপলাইন বা অন্য অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে রাস্তা নির্মাণের আগেই তা জানানো উচিত। এতে একই সঙ্গে কাজ শেষ করা সম্ভব হয় এবং সরকারি অর্থের অপচয় কমে।
তিনি বলেন, নতুন রাস্তা নির্মাণের পর আবার সেটি কেটে কাজ করা হলে সরকারের অর্থ ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়। তাই ভবিষ্যতে সব সংস্থাকে পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রকল্পসংলগ্ন খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে। বর্ষা শেষে খাল খনন ও ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের পাশে গার্ডওয়ালও নির্মাণ করা হবে।
ইনার সার্কুলার রিং রোডের দুই পাশে গাছ লাগানো, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রকল্পটি শেষ হলে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ এবং বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন এলাকার যান চলাচল, পরিবেশ ও সৌন্দর্যে বড় পরিবর্তন আসবে।
বুড়িগঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্ষা শেষে নদী পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করারও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মিঠুন চন্দ্র শীল, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।