ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে দায় নেবে না সরকার: আইনমন্ত্রী

দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে দায় নেবে না সরকার: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ, পারস্পরিক রেষারেষি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিহার করে দলীয় আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দলের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে সেটি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা বিভেদে রূপ নেওয়া উচিত নয়। দলের ভেতরে অনৈক্য বাড়লে সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পকেটের লোক’, ‘ভাইয়ের লোক’ কিংবা ‘মাই ম্যান’ সংস্কৃতির আর সুযোগ নেই। শুধু দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকা বা মিছিল-মিটিং করাই মনোনয়ন পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হবে না।

তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বাস্তব সক্ষমতা রয়েছে, দল তাকেই প্রাধান্য দেবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ও ‘উইনিং ক্যান্ডিডেট’ বাছাই করে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিগত সরকারের সময়ে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, ধর্ষণ ও স্পষ্ট দুর্নীতির মামলা ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলা প্রত্যাহারে সরকার কাজ করছে। এ জন্য জেলা প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে।

খুলনার রাজনৈতিক মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ কাজে কোনো পাবলিক প্রসিকিউটরের গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপসা ঘাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কৃষকদের জিম্মি করতে বা চাঁদাবাজি করতে পারবে না।

এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী নেতা অপরাধীদের পক্ষে তদবির করলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। কয়েকজন সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল বা সরকার নেবে না।

সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি প্রটোকল সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ প্রটোকল কমিয়ে জননিরাপত্তায় পুলিশকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রীদের গাড়ির বহর ও জ্বালানি বরাদ্দ কমিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষকদের ঋণসহায়তা, ফ্যামিলি কার্ড চালু, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাসহ খুলনার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বিএনপি আইনমন্ত্রী চাঁদাবাজি

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে দায় নেবে না সরকার: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ, পারস্পরিক রেষারেষি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিহার করে দলীয় আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দলের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে সেটি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা বিভেদে রূপ নেওয়া উচিত নয়। দলের ভেতরে অনৈক্য বাড়লে সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পকেটের লোক’, ‘ভাইয়ের লোক’ কিংবা ‘মাই ম্যান’ সংস্কৃতির আর সুযোগ নেই। শুধু দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকা বা মিছিল-মিটিং করাই মনোনয়ন পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হবে না।

তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বাস্তব সক্ষমতা রয়েছে, দল তাকেই প্রাধান্য দেবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ও ‘উইনিং ক্যান্ডিডেট’ বাছাই করে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিগত সরকারের সময়ে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, ধর্ষণ ও স্পষ্ট দুর্নীতির মামলা ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলা প্রত্যাহারে সরকার কাজ করছে। এ জন্য জেলা প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে।

খুলনার রাজনৈতিক মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ কাজে কোনো পাবলিক প্রসিকিউটরের গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপসা ঘাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কৃষকদের জিম্মি করতে বা চাঁদাবাজি করতে পারবে না।

এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী নেতা অপরাধীদের পক্ষে তদবির করলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। কয়েকজন সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল বা সরকার নেবে না।

সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি প্রটোকল সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ প্রটোকল কমিয়ে জননিরাপত্তায় পুলিশকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রীদের গাড়ির বহর ও জ্বালানি বরাদ্দ কমিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষকদের ঋণসহায়তা, ফ্যামিলি কার্ড চালু, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাসহ খুলনার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ