ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এপস্টেইন ফাইল নিয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস

এপস্টেইন ফাইল নিয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস
বিল গেটস | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় তার অতীত অপরাধের বিষয়টি জানতেন। তবে পরবর্তীতে এপস্টেইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন গেটস।

চলতি মাসের শুরুতে এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার দেন বিল গেটস। পরে ওই সাক্ষাৎকারের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

গেটসের ভাষ্য, এপস্টেইন তার দাতব্য কার্যক্রমে বড় দাতাদের যুক্ত করতে পারবেন, এমন আশায় তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি বুঝতে পারেন, এপস্টেইন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না। এরপরই তিনি সম্পর্ক শেষ করেন।

এপস্টেইনের ২০০৮ সালের দণ্ডের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং সেটি যৌন অপরাধসংক্রান্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেননি, যা তার করা উচিত ছিল বলে স্বীকার করেন।

গেটস আরও বলেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড থাকার কথা জানলেও তিনি যে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন কখনো তার বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

এপস্টেইন ফাইলস থেকে প্রকাশিত কিছু নথিতে গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, গেটসের একটি যৌনবাহিত রোগ ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সেখানে আরও দাবি করা হয়, গেটস তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে গোপনে দেওয়ার জন্য এপস্টেইনের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন।

কমিটির সামনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন বিল গেটস। তার দাবি, এগুলো ছিল ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের চেষ্টার অংশ। গেটস বলেন, প্রকাশিত নথি দেখে মনে হচ্ছে এপস্টেইন তাকে কীভাবে চাপে ফেলা যায়, সে বিষয়ে নিজের ইমেইলে এক ধরনের মহড়া দিচ্ছিলেন। তবে ওই বার্তাগুলো কখনো তার কাছে পাঠানো হয়নি এবং তিনি এপস্টেইনকে কোনো অর্থ দেননি।

এদিকে হাউস কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফের সাক্ষাৎকারের অনুলিপিও প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের একটি অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে গ্রফকে সম্ভাব্য সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

গ্রফ এই পরিচয়কে তার জীবনের বড় কলঙ্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো ষড়যন্ত্রকারী নন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।

গ্রফের দাবি, এপস্টেইনের প্রকৃত অপরাধ সম্পর্কে তিনিও অন্ধকারে ছিলেন। ২০০৮ সালের দণ্ডের পর এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সেই বক্তব্য বিশ্বাস করেছিলেন বলে জানান।

নিজের চাকরি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যায় গ্রফ বলেন, দণ্ডের পরও অনেক প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিকে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেখেছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে বছরে কয়েকবার তার সঙ্গে এপস্টেইনের ফোনালাপের ব্যবস্থা করতেন তিনি।

এপস্টেইন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তার সঙ্গে এপস্টেইনের পুরোনো যোগাযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর বহু বছর আগে তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছিলেন।

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফাইল প্রকাশের ধীরগতির কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া আইনগত ও প্রক্রিয়াগত নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র বিল গেটস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
রবিবার৮
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫১ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৪ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৮ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


এপস্টেইন ফাইল নিয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় তার অতীত অপরাধের বিষয়টি জানতেন। তবে পরবর্তীতে এপস্টেইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন গেটস।

চলতি মাসের শুরুতে এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার দেন বিল গেটস। পরে ওই সাক্ষাৎকারের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

গেটসের ভাষ্য, এপস্টেইন তার দাতব্য কার্যক্রমে বড় দাতাদের যুক্ত করতে পারবেন, এমন আশায় তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি বুঝতে পারেন, এপস্টেইন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না। এরপরই তিনি সম্পর্ক শেষ করেন।

এপস্টেইনের ২০০৮ সালের দণ্ডের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং সেটি যৌন অপরাধসংক্রান্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেননি, যা তার করা উচিত ছিল বলে স্বীকার করেন।

গেটস আরও বলেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড থাকার কথা জানলেও তিনি যে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন কখনো তার বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

এপস্টেইন ফাইলস থেকে প্রকাশিত কিছু নথিতে গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, গেটসের একটি যৌনবাহিত রোগ ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সেখানে আরও দাবি করা হয়, গেটস তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে গোপনে দেওয়ার জন্য এপস্টেইনের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন।

কমিটির সামনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন বিল গেটস। তার দাবি, এগুলো ছিল ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের চেষ্টার অংশ। গেটস বলেন, প্রকাশিত নথি দেখে মনে হচ্ছে এপস্টেইন তাকে কীভাবে চাপে ফেলা যায়, সে বিষয়ে নিজের ইমেইলে এক ধরনের মহড়া দিচ্ছিলেন। তবে ওই বার্তাগুলো কখনো তার কাছে পাঠানো হয়নি এবং তিনি এপস্টেইনকে কোনো অর্থ দেননি।

এদিকে হাউস কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফের সাক্ষাৎকারের অনুলিপিও প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের একটি অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে গ্রফকে সম্ভাব্য সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

গ্রফ এই পরিচয়কে তার জীবনের বড় কলঙ্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো ষড়যন্ত্রকারী নন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।

গ্রফের দাবি, এপস্টেইনের প্রকৃত অপরাধ সম্পর্কে তিনিও অন্ধকারে ছিলেন। ২০০৮ সালের দণ্ডের পর এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সেই বক্তব্য বিশ্বাস করেছিলেন বলে জানান।

নিজের চাকরি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যায় গ্রফ বলেন, দণ্ডের পরও অনেক প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিকে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেখেছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে বছরে কয়েকবার তার সঙ্গে এপস্টেইনের ফোনালাপের ব্যবস্থা করতেন তিনি।

এপস্টেইন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তার সঙ্গে এপস্টেইনের পুরোনো যোগাযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর বহু বছর আগে তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছিলেন।

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফাইল প্রকাশের ধীরগতির কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া আইনগত ও প্রক্রিয়াগত নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ