সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারভুক্ত ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং মাদক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব-১০-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন ও জিহাদের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ওই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিত এবং মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তিনি জানান, হামলার ঘটনায় র্যাব-১০ চারজন এবং র্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আরও আসামিদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি গ্যারেজে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজ মালিককে মারধরের ঘটনা দেখে এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে তার ও তার ছেলের কথা কাটাকাটি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানায় র্যাব। পরে প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পরে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে কারখানায় হামলা চালায়। তারা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এ সময় কারখানার ভেতরে ভাঙচুরও করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আলতাফ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়নি। তিনি সেসময় সাধারণ পোশাকে ছিলেন এবং একজন নাগরিক হিসেবে একজন বৃদ্ধকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি আঘাত করেছে। জিহাদ ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে এবং আপন এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আট আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহমেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ নাগরিকরাও অপরাধীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দিতে পারেন। পাশাপাশি কোনো ঘটনার সময় শুধু ভিডিও ধারণ না করে মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।