ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম

১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম
ফাইল ছবি
ফলো করুন

কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সরকারি কৃষিসেবা পাওয়ার সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

একই দিনে দেশের ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। উদ্বোধনের দিন সারাদেশের প্রায় এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক। তাদের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষক নয়, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মূল পর্যায়ের কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কার্ডধারী কৃষকের পরিচয় দ্রুত যাচাই করা যাবে এবং সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রমটি ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ বা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ফসল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া মৎস্যচাষি প্রায় দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালনকারী কৃষক প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। প্রায় ৪৩ শতাংশ কৃষকের জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতকের মধ্যে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষকের জমি ৫ থেকে ৪৯ শতকের মধ্যে।

চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ : কৃষক কার্ড কৃষি মন্ত্রণালয়

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সরকারি কৃষিসেবা পাওয়ার সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে কৃষক কার্ড কার্যক্রম। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

একই দিনে দেশের ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। উদ্বোধনের দিন সারাদেশের প্রায় এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক। তাদের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষক নয়, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মূল পর্যায়ের কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কার্ডধারী কৃষকের পরিচয় দ্রুত যাচাই করা যাবে এবং সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রমটি ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ বা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ফসল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া মৎস্যচাষি প্রায় দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালনকারী কৃষক প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। প্রায় ৪৩ শতাংশ কৃষকের জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতকের মধ্যে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষকের জমি ৫ থেকে ৪৯ শতকের মধ্যে।

চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ