নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষের ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার ঋণ কখনো শোধ করতে পারবো না। আল্লাহ যেন আমাকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করার তৌফিক দেন।”
লাখো মানুষের উদ্দেশে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্ক্তি উল্লেখ করে বলেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু এবং কৃষকদের জন্য ইপিজেড স্থাপনের বিষয়েও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সেখানে উপস্থিত হন।
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, জেলার একজন সন্তান দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব নেওয়ায় এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম নিজ জেলা সফর। দুপুরে তিনি হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং সেনুয়া এলাকায় তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজানো হয় তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন। তার সফর উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।