ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এআই বিনিয়োগের জোয়ারে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার রেকর্ড ৩৭৯৫ জন

এআই বিনিয়োগের জোয়ারে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার রেকর্ড ৩৭৯৫ জন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের দ্রুত প্রসার এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের উত্থানে ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ও সম্পদ দুটিই নতুন রেকর্ড গড়েছে। সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার হিসাবে, গত বছর বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ জনে।

আলট্রাটার ‘বিলিয়নেয়ার সেনসাস ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে দ্রুত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫ সালে নতুন করে নিট ২৮৭ জন বিলিয়নেয়ারের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

একই সময়ে বিশ্বের সব বিলিয়নেয়ারের সম্মিলিত সম্পদ ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একজন বিলিয়নেয়ারের গড় সম্পদ এখন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, যদিও মধ্যম সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

আলট্রাটা বলছে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি ছিল এআই খাতে বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের এমন ১৫০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলোর শেয়ারের সঙ্গে বিলিয়নেয়ারদের বিপুল সম্পদ যুক্ত রয়েছে।

গত পাঁচ বছরে যেসব কোম্পানি এআই খাতে অন্তত ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, সেগুলোকে ‘উল্লেখযোগ্য এআই বিনিয়োগকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ মিলিয়ে এসব কোম্পানির বাজারমূল্য বৃদ্ধির হার এআইয়ে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না করা কোম্পানির তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি ছিল।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও বড় শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্ত ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি খাত বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের ‘সুপারবিলিয়নেয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২৯ জন।

এই ২৯ জনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের সব বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদের প্রায় ২৭ শতাংশ। অথচ ২০১৭ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন মাত্র ১০ জন এবং তাদের হাতে ছিল মোট বিলিয়নেয়ার সম্পদের প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

আলট্রাটার মতে, এ পরিসংখ্যান বিশ্বের অতি ধনীদের মধ্যেও সম্পদ ক্রমেই অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৩৭ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন ১ হাজার ২৬৫ জন। ইউরোপে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১ হাজার ৮১ এবং এশিয়ায় ৮৮১ জন।

আলট্রাটা সতর্ক করেছে, এআই সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদেও দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

ট্যাগ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইলন মাস্ক

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই বিনিয়োগের জোয়ারে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার রেকর্ড ৩৭৯৫ জন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের দ্রুত প্রসার এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের উত্থানে ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ও সম্পদ দুটিই নতুন রেকর্ড গড়েছে। সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার হিসাবে, গত বছর বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ জনে।

আলট্রাটার ‘বিলিয়নেয়ার সেনসাস ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে দ্রুত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫ সালে নতুন করে নিট ২৮৭ জন বিলিয়নেয়ারের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

একই সময়ে বিশ্বের সব বিলিয়নেয়ারের সম্মিলিত সম্পদ ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একজন বিলিয়নেয়ারের গড় সম্পদ এখন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, যদিও মধ্যম সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

আলট্রাটা বলছে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি ছিল এআই খাতে বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের এমন ১৫০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলোর শেয়ারের সঙ্গে বিলিয়নেয়ারদের বিপুল সম্পদ যুক্ত রয়েছে।

গত পাঁচ বছরে যেসব কোম্পানি এআই খাতে অন্তত ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, সেগুলোকে ‘উল্লেখযোগ্য এআই বিনিয়োগকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ মিলিয়ে এসব কোম্পানির বাজারমূল্য বৃদ্ধির হার এআইয়ে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না করা কোম্পানির তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি ছিল।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও বড় শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্ত ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি খাত বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের ‘সুপারবিলিয়নেয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২৯ জন।

এই ২৯ জনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের সব বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদের প্রায় ২৭ শতাংশ। অথচ ২০১৭ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন মাত্র ১০ জন এবং তাদের হাতে ছিল মোট বিলিয়নেয়ার সম্পদের প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

আলট্রাটার মতে, এ পরিসংখ্যান বিশ্বের অতি ধনীদের মধ্যেও সম্পদ ক্রমেই অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৩৭ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন ১ হাজার ২৬৫ জন। ইউরোপে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১ হাজার ৮১ এবং এশিয়ায় ৮৮১ জন।

আলট্রাটা সতর্ক করেছে, এআই সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদেও দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ