উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে দেশের নৌবাহিনীকে পরমাণু শক্তিতে আরও সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
কিম বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করাই একমাত্র সঠিক পথ। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আসা অব্যাহত সামরিক হুমকিকে দায়ী করেন।
চলতি সপ্তাহে শেষ হওয়া ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির বৈঠকেও তিনি পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি যুদ্ধজাহাজগুলোকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা, উন্নত অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করা এবং দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে ‘অকল্পনীয় হারে’ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া অতীতে প্রায়ই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেছে। তবে এখন আর দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব নিয়ে তেমন কোনো সংশয় নেই। বরং প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফেলো পিটার ওয়ার্ডের ভাষ্য, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা এখন এতটাই বিস্তৃত ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে যে, কোনো একক সামরিক হামলার মাধ্যমে তা পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
চলতি বছর উত্তর কোরিয়া তাদের নতুন ৫ হাজার টন ওজনের একটি ডেস্ট্রয়ার থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর আরও দুটি করে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন কিম জং উন।
এ ছাড়া সম্ভাব্য শত্রু হামলা মোকাবিলায় দেশটি রেল ও সড়কভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা এবং ক্রমবর্ধমান সাবমেরিন বহর গড়ে তুলছে বলেও জানান তিনি।