বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে নিজের ছায়া হয়ে থাকা পর্তুগিজ মহাতারকাকে ঘিরে প্রশ্ন ছিল সর্বত্র। অন্যদিকে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়িয়ে নজর কেড়েছিলেন।
পরিস্থিতি আরও চাপের হয়ে ওঠে দ্বিতীয় ম্যাচে। মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পর রোনালদোর ওপর প্রত্যাশার চাপ বাড়তে থাকে। সেই চাপের জবাব দিলেন মাঠেই। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে ৫-০ গোলের বড় জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে রোনালদো বলেন, “আই অ্যাম ব্যাক, আই অ্যাম ব্যাক।”
তবে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরও একটি কারণে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এক সাংবাদিক লিওনেল মেসির জোড়া গোলের প্রসঙ্গ তুলতেই তাকে থামিয়ে দেন রোনালদো। সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি বলেন, “পরের প্রশ্নটি করুন।”
সাংবাদিকটি ঠিক কী প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে মেসিকে ঘিরে প্রশ্ন শুনে রোনালদোর মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
পরে সম্ভাব্য নকআউট পর্বে মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে পর্তুগিজ অধিনায়ক বলেন, এমন প্রশ্নকে তিনি খুব একটা অর্থবহ মনে করেন না। যদিও দুই মহাতারকার মুখোমুখি লড়াইকে তিনি বিশেষ কিছু বলেই মনে করেন।
রোনালদো বলেন, “বিশ্বকাপে মেসির মুখোমুখি হওয়া? প্রশ্নটা অর্থবহ মনে হচ্ছে না… ঠিক আছে, দেখা হলে সেটা দুর্দান্ত হবে।”
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু সমালোচনার জবাবই দেননি রোনালদো, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও। বিশ্বকাপে টানা ছয় আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। কিংবদন্তি ইউসেবিওর ৯ গোলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা দাঁড় করিয়েছেন ১০-এ।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
রোনালদো বলেন, “আমার পুরো মনোযোগ আজকের ম্যাচেই ছিল। আমরা জিতেছি, গোল করতে পেরেছি এবং আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। এতেই আমি খুশি।”