নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯৭ বছর বয়সী গুনা মায়া বোহারা জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। চার ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পর পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী তাকে নিরাপদে বের করে আনে। ঘটনাটি দুর্যোগের মধ্যে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গুনা মায়া বোহারা একটি বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থান করছিলেন। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভবনটি ধসে পড়লে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকারীরা তার অবস্থান শনাক্ত করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর তাকে একটি খননযন্ত্রের বাকেটে বসিয়ে ধ্বংসস্তূপের এলাকা থেকে বের করে আনা হয়। কাদামাখা পোশাকে ওই বৃদ্ধার উদ্ধারের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার স্বজন দীপক বোহারা তাকে যুদ্ধ শেষে ফিরে আসা একজন যোদ্ধার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গুনা মায়াকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি বেঁচে ছিলেন, তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ছয় শতাধিক ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ বিভিন্ন প্রতিবেদনে নেপালে ৬৭৫ থেকে ৬৭৬টি মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগে রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও বারবার ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা আবার জোরদার করা হয়েছে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর অবকাঠামো পুনর্গঠনে দেশটির ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ