ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে শান্তিচুক্তি মানার আহ্বান পাকিস্তানের

উপসাগরে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে শান্তিচুক্তি মানার আহ্বান পাকিস্তানের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। একই সঙ্গে গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ইসলামাবাদে সফররত রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন জারদারি।

জারদারির বার্তাটি শুধু দুই দেশের বিরোধ থামানোর আহ্বানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মতপার্থক্যের সমাধান হতে হবে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কারণ, এসব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জারদারি। তার মতে, চলমান সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

একই সঙ্গে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত জুনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নামে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। জারদারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সেই সমঝোতার আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক। চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে থাকা রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ জানিয়েছেন, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

রুশ মন্ত্রীর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনার তুলনায় এই বাণিজ্যের পরিমাণ এখনও কম। রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

পাশাপাশি পাকিস্তান ও রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন কোলোকোলৎসেভ।

রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে কোনো রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। বৈঠকের শেষে জারদারিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

অর্থাৎ, একদিকে উপসাগরীয় সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযমের বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও আরও গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পাকিস্তান সেনাবাহিনী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে শান্তিচুক্তি মানার আহ্বান পাকিস্তানের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। একই সঙ্গে গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ইসলামাবাদে সফররত রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন জারদারি।

জারদারির বার্তাটি শুধু দুই দেশের বিরোধ থামানোর আহ্বানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মতপার্থক্যের সমাধান হতে হবে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কারণ, এসব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জারদারি। তার মতে, চলমান সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

একই সঙ্গে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত জুনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নামে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। জারদারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সেই সমঝোতার আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক। চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে থাকা রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ জানিয়েছেন, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

রুশ মন্ত্রীর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনার তুলনায় এই বাণিজ্যের পরিমাণ এখনও কম। রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

পাশাপাশি পাকিস্তান ও রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন কোলোকোলৎসেভ।

রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে কোনো রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। বৈঠকের শেষে জারদারিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

অর্থাৎ, একদিকে উপসাগরীয় সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযমের বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও আরও গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ