ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য যৌথ হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের আগেই এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন এবং ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই দুই নির্বাচনের আগেই ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান চালানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একাধিক টেলিফোনে কথা হয়েছে। এসব আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর অবস্থান পরিবর্তিত হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আরও জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য নেতানিয়াহুকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন ট্রাম্প।
তবে হামলার প্রস্তাব প্রথম কে দিয়েছেন, তা নিয়েও ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু তাঁর প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প নিজেই প্রথম সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অভিযানে ইসরায়েল অংশ নিতে আগ্রহী কি না, সেটিও জানতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত ফোনালাপের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না।
ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রকাশিত দাবিগুলোর আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই
মন্তব্যসমূহ