ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা, নিহত ২

কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা, নিহত ২
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহকেন্দ্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই হামলায় একটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেন।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানীর দারনিতস্কা সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র। একই সঙ্গে একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে, তখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতেই কেন আবার হামলা?

কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীর একাধিক জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। হামলার পর শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও রাশিয়া আবারও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বেসামরিক মানুষের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তার দাবি, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ইউক্রেনকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

এখানেই তৈরি হয়েছে আরও বড় প্রশ্ন। যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন মাঠে কেন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এর পরও কিয়েভে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প অবশ্য ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের খবর নাকচ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো ইউক্রেনকে সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

তবে কিয়েভে হামলার বিষয়ে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। বরং তিনি বলেছেন, দুই পক্ষই যুদ্ধ শেষ করতে চায়, কিন্তু কীভাবে তা করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এর মধ্যেই ইউক্রেন আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা সহযোগিতা চাইছে। জেলেনস্কির পরবর্তী বৈঠকগুলোতেও কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

অর্থাৎ, কিয়েভের রাতের এই হামলা শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাতের ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ফলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নতুন করে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

ট্যাগ : ইউক্রেন রাশিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা, নিহত ২

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহকেন্দ্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই হামলায় একটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেন।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানীর দারনিতস্কা সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র। একই সঙ্গে একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে, তখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতেই কেন আবার হামলা?

কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীর একাধিক জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। হামলার পর শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও রাশিয়া আবারও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বেসামরিক মানুষের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তার দাবি, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ইউক্রেনকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

এখানেই তৈরি হয়েছে আরও বড় প্রশ্ন। যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন মাঠে কেন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এর পরও কিয়েভে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প অবশ্য ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের খবর নাকচ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো ইউক্রেনকে সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

তবে কিয়েভে হামলার বিষয়ে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। বরং তিনি বলেছেন, দুই পক্ষই যুদ্ধ শেষ করতে চায়, কিন্তু কীভাবে তা করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এর মধ্যেই ইউক্রেন আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা সহযোগিতা চাইছে। জেলেনস্কির পরবর্তী বৈঠকগুলোতেও কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

অর্থাৎ, কিয়েভের রাতের এই হামলা শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাতের ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ফলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নতুন করে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ