অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে যেকোনো ঘটনা ঘটার আগেই আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ত্রৈমাসিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন আইজিপি।
দিনব্যাপী সম্মেলনটি সকালে উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সব মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা অংশ নেন।
আইজিপি বলেন, অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে পুলিশকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভাব্য কোনো ঘটনার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশ জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলা তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও আলোচনা হয়।
ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলার তদন্ত আরও জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলাসংক্রান্ত মামলার তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মুলতবি মামলার সংখ্যা কমিয়ে অপরাধীদের সাজার হার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ ইউনিটের কার্যক্রম নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়। আইজিপি আলী হোসেন ফকির তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।
মন্তব্যসমূহ