ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি, বাস্তবায়ন হচ্ছে না বিধিমালা: টিআইবি

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি, বাস্তবায়ন হচ্ছে না বিধিমালা: টিআইবি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা করা হলেও সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

তার মতে, এর পেছনে পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না থাকায় সঠিক পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ই-বর্জ্য শুধু পরিবেশের জন্য ঝুঁকি নয়, সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বিধিমালা থাকলেই হবে না, এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ই-বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সেই প্রযুক্তি থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্যের ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে দেশে সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পর সেগুলোর বর্জ্য কীভাবে পুনর্ব্যবহার বা নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সেই বিষয়টি এখন থেকেই পরিকল্পনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে আরও একটি বড় সমস্যা। দেশের ৪১টি জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নষ্ট ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পড়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসব নষ্ট ইভিএম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, পুনর্ব্যবহার করা হবে কি না কিংবা এগুলো থেকে তৈরি ই-বর্জ্য কীভাবে নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অর্থাৎ, একদিকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিধিমালা রয়েছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পর সেগুলোর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

ই-বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকলে শুধু নতুন আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বাস্তবে তা প্রয়োগ, তথ্যভান্ডার তৈরি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ট্যাগ : টিআইবি ই-বর্জ্য রিবেশ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি, বাস্তবায়ন হচ্ছে না বিধিমালা: টিআইবি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা করা হলেও সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

তার মতে, এর পেছনে পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না থাকায় সঠিক পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ই-বর্জ্য শুধু পরিবেশের জন্য ঝুঁকি নয়, সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বিধিমালা থাকলেই হবে না, এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ই-বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সেই প্রযুক্তি থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্যের ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে দেশে সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পর সেগুলোর বর্জ্য কীভাবে পুনর্ব্যবহার বা নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সেই বিষয়টি এখন থেকেই পরিকল্পনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে আরও একটি বড় সমস্যা। দেশের ৪১টি জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নষ্ট ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পড়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসব নষ্ট ইভিএম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, পুনর্ব্যবহার করা হবে কি না কিংবা এগুলো থেকে তৈরি ই-বর্জ্য কীভাবে নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অর্থাৎ, একদিকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিধিমালা রয়েছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পর সেগুলোর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

ই-বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকলে শুধু নতুন আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বাস্তবে তা প্রয়োগ, তথ্যভান্ডার তৈরি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ