জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহে ভোগান্তি এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এসব সংকটের পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে এবং গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক নয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়মিত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুষ্টু লোকে বলে, ভালো লোকে বলে না— টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে, আল্লাহ জানে।’
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি কখনো ব্যঙ্গ করেন, আবার কখনো ‘বাকচাতুর্য’ দিয়ে পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে এবং চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মিনিকেট চালের বাড়তি দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য তুলে ধরছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ