সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজার প্রস্তুতি পর্ব থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন এবং পূজা-পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সভায় সভাপতিত্বকালে আইজিপি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে।
আইজিপি জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রথম ধাপে পূজা শুরুর আগের সময়, দ্বিতীয় ধাপে পূজা চলাকালীন সময় এবং তৃতীয় ধাপে প্রতিমা বিসর্জনসহ পূজা-পরবর্তী পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমই নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
একই সঙ্গে উৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্যসমূহ