ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশল ব্যর্থ হয়েছে এবং এর বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই উদ্যোগকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক অভিযান হিসেবে তুলে ধরেন। এর আওতায় ইরানের তেল, ব্যাংকিং, জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন খাত এবং তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলের সমালোচনা করেন ক্রিস মারফি। নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে তিনি ‘মরিয়া লোকদেখানো ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দেন।
মারফির ভাষ্য, ‘ইরান যুদ্ধে জিতছে, ট্রাম্প হারছেন। আর এর জন্য আমেরিকানদের বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।’
মারফির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার সব অর্জিত হয়নি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং দীর্ঘ সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মার্কিন এই সিনেটর আরও দাবি করেন, সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন অর্থনৈতিক চাপকে সামনে এনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী দেখানোর চেষ্টা করছে।
মারফি বলেন, ‘মূল কথা হলো, ট্রাম্প সামরিক অভিযান হেরেছেন।’ তাঁর মতে, যুদ্ধ কার্যত শেষ পর্যায়ে এবং ইরান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে তিনি সেই বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তবে ইরান যুদ্ধে জিতেছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে, এগুলো ক্রিস মারফির রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যায়ন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমতও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরং দাবি করছে, নতুন অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের রাজস্ব ও আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ সীমিত করে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মন্তব্যসমূহ