০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে এই প্রথমবার প্রকাশ্যে এবং ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচারের (লাইভস্ট্রিম) মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দেখার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা রয়েছে। রক্ষণশীল টিভি চ্যানেল ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি সরাসরি দেখতে পায় এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। মানুষের বোঝা উচিত, এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য কী কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন, হাসানের জন্য সামরিক ফায়ারিং স্কোয়াডই মোতায়েন থাকবে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে এই রায় কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে গত ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ ১৯৬১ সালে একজন সেনার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল সেই ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে।
তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার এবং আইন অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রখ্যাত আইনজীবী জন মিলস এই উদ্যোগকে আধুনিক যুগে সম্পূর্ণ ‘নজিরবিহীন’ ও আইনি বৈধতাহীন আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন, এটি কেবলই প্রচারণার স্বার্থে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা। তিনি জানান, হাসানের ফেডারেল আপিল প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে; তিনি উচ্চ আদালতে গেলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে এবং ট্রাম্পের মেয়াদকালেও তা কার্যকর না-ও হতে পারে। ইয়েল ল স্কুলের ভিজিটিং লেকচারার ইউজিন আর ফিডেল এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকের মতো শীর্ষ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো যেকোরো লাইভস্ট্রিমিং বা মৃত্যুর দৃশ্য সরাসরি দেখানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ফলে সরকারি এই ঘোষণা আইনি চ্যালেঞ্জ ও সম্প্রচার নীতিমালার কঠোর বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্যসমূহ